8:44 pm - Friday May 25, 2018

গর্ভধারিণী মাকে বের করে বাড়ি দখলে নিল তুরিন আফরোজ

>রাজধানীর উত্তরায় ভাইয়ের নামে মায়ের দেয়া ওই বহুতল বাড়িটি গত বছর জোর করে দখলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ।ঢাকার উত্তরার বাড়িটি ছাড়াও গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকাতেও পৈতৃক সম্পত্তি দখল করার অভিযোগ করেছেন তার মা শামসুন নাহার তসলিম। এই প্রেক্ষাপটে নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে পত্র দিয়েছেন তুরিনের মা। মেয়ে তুরিন জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে এমনটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর দফতর বরাবর গত বছরের ৭ জুলাই অভিযোগ দিয়েছেন শামসুন নাহার।

গর্ভধারিণী মাকে বের করে দিয়ে বাড়ি দখল করেছেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। এমন অভিযোগ করেছেন তার গর্ভধারিণী মা। রাজধানীর উত্তরায় ভাইয়ের নামে মায়ের দেয়া ওই বহুতল বাড়িটি গত বছর জোর করে দখলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ।দখল হওয়া বাড়ি উদ্ধারের জন্য ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা করেছেন তুরিন আফরোজের আপন ছোটভাই শাহনওয়াজ আহমেদ শিশির। মামলাটি বর্তমানে পরিচালনা করছেন শিশির ও তুরিন আফরোজের মা শামসুন নাহার।

তবে বাড়িটি নিজের দাবি করে তুরিন আফরোজও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একই আদালতে। আগামী ৭ জুন মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।গত ১ জানুয়ারি ঢাকার প্রথম যুগ্ম জজ আদালতে দায়ের করা (মামলা নম্বর ১৩-২০১৮) মামলায় বাদি শাহনওয়াজ আহমেদ শিশির উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ২ মার্চ পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে মা শামসুন নাহার এবং অন্য ভাড়াটিয়াদের বাড়ি থেকে বের করে দেন তুরিন আফরোজ।

নিজেকে বাড়ির মালিক দাবি করে তুরিন বাড়ি ও জমির দলিলপত্রও দখলে নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, ভাই শিশির সম্পত্তিতে আসতে চাইলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়া হবে বলেও মাকে হুমকি দেন বিবাদি তুরিন।ঘটনার পর থেকেই মা শামসুন নাহার আর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ১১ সড়কের ১৫ নম্বরের বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি।

 

প্রবেশ করতে চাইলে ভাই শিশিরকেও বাড়িতে ঢুকতে দেননি তুরিন, এমন অভিযোগ করেছেন মা শামসুন নাহার।বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিবেদকের কথা হয়, মামলা পরিচালনাকারী শামসুন নাহারের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার সব সুখ খানখান করে দিয়েছে পেটের মেয়ে তুরিন। ৫ তলা বিশিষ্ট দুই ইউনিটের বাড়িটি তুরিন দখলে নিয়েছে। তিনি জানান, তার স্বামী অর্থাৎ তুরিনের বাবা হাজী হাফেজ ইয়ার মোহাম্মদ তরফদারের ওয়ারিশদের কাছ থেকে বাড়িটি নিজ স্ত্রীর নামে ক্রয় করেন।

 

পরে শামসুন নাহার ১৯৯৭ সালে ছেলের নামে বাড়িটি লিখে দেন।তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে স্বামী (তুরিন-শিশিরের বাবা) মারা যাওয়ার দুই মাস পরেই পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তুরিন। বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়াদেরও বের করে দেয়া হয়। নিজের অভিজাত বাড়ি থাকার পরও আজ আমি ফেরারি। আজ এ আত্মীয়ের বাসায় তো কাল আরেক আত্মীয়ের বাসায় রাত কাটছে। কানাডা প্রবাসী ছেলেও তুরিনের ভয়ে দেশে আসতে পারছে না।’কথায় কথায় আমার মেয়ে তুরিন র‌্যাব ডিজি, পুলিশ, গোয়েন্দাদের ভয় দেখায়। জীবনের শেষ বেলায় বড়ই অসহায় লাগছে। নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে আবেদন করেছি।

 

ব্যক্তি আর সংসারজীবনে উচ্ছৃঙ্খল তুরিন আজ আমাদের প্রাণনাশের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এমনটি বলছিলেন তুরিনের মা।অভিযোগের ব্যাপারে কথা হয় ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে আমার জন্মদাত্রী মা আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনতে পারেন। আজকের এই আমি জীবনে যতটুকু অর্জন করেছি তার পেছনে এক বিশাল অবদান রয়েছে আমার মা আর বাবার। আমি আমার মরহুম বাবা এবং বিধবা মায়ের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।’

Filed in: এক্সক্লুসিভ নিউজ

Comments are closed.