8:45 pm - Friday May 25, 2018

এশাকে ‘হেনস্তার’ ঘটনায় ২৫ ছাত্রীকে নোটিশ!!কী আছে ঐ নোটিশে?জানুন বিস্তাুরিত ….

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে ‘হেনস্তার’ ঘটনায় ওই হলের ২৫ ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না পেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও ওই নোটিশে বলা হয়েছে।

ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ করে দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

নোটিশে বলা হয়েছে, ‘বিগত ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার মধ্যরাতে আপনি কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অসত্য রটনা ও গুজব ছড়িয়েছেন যে, উক্ত হলের আবাসিক ছাত্রী ইফফাত জাহান ইশা, মোর্শেদা আক্তার নামক একজন আবাসিক ছাত্রীর রগ কেটে দিয়েছে এবং তাকে মারধর করেছে।’

‘আপনি অন্যান্য আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করেছেন ও তার আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আপনার এ ধরনের পূর্বপরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও প্রচারণা হলের ছাত্রীদের ভীষণভাবে উত্তেজিত ও আতঙ্কিত করে। তাছাড়া আপনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে সংঘবদ্ধ হয়ে ইফফাত জাহান ইশাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন এবং জোরপূর্বক ইফফাত জাহান ইশার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন এবং তার বস্ত্র হরণ করেন।’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে সংঘটিত উক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সাথে আপনার জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। একজন শিক্ষার্থী কর্তৃক এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যকলাপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ভীষণভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আইনের সুস্পষ্ট পরিপন্থী।’

গত ১৮ এপ্রিল শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশ ও ৩০ এপ্রিলের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই ছাত্রীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারণ চিঠি পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রক্টরের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

কারণ দর্শানোর এই নোটিশ ছাত্রীদের হলের ঠিকানা, বিভাগের ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা রহমান।

গত ১০ এপ্রিল মধ্যরাতে কবি সুফিয়া কামাল হলে সাধারণ ছাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠে এশার বিরুদ্ধে। ওই রাতে তিনি বিক্ষুব্ধ সাধারণ ছাত্রীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে এশাকে হল থেকে বহিষ্কার করে প্রশাসন। এরপর এক বিবৃতিতে ছাত্রলীগ এশাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করে। তবে তিন দিনের মাথায় আরেক বিবৃতির মাধ্যমে ছাত্রলীগ এশাকে তার আগের পদ ফিরিয়ে দেয়। তাদের বক্তব্য ছিল, ‘তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুসারে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তার ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে স্বপদে পুনর্বহাল করা হলো।’ পরে ১৮ এপ্রিল এশাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্বও ফিরিয়ে দেয়া হয়।

Filed in: এক্সক্লুসিভ নিউজ

Comments are closed.